কপিরাইট ইস্যু: কনটেন্ট আইডি ক্লেইম কি?
--
----------------
যদি আপনি এমন কোন কিছু ইউটিউবে আপলোড করে থাকেন যাতে অন্য কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কপিরাইট প্রোটেকটেড উপাদান থাকে তাহলে আপলোড শেষ হওয়ার পর কপিরাইট ক্লেইম পেতে পারেন। কপিরাইট ক্লেইমের ধরণ কি হবে তা মুলত: কপিরাইটে সেট করা কনটেন্টের মালিকের উপর ইচ্ছা করে। মালিক ইচ্ছে করলে তার কনটেন্টকে ইউটিউবের যে কোন মাধ্যমে আপলোড করতে বাধা দিতে পারেন, চাইলে রেভিনিউ সব নিজে গ্রহণ করতে পারেন অথবা শেয়ার করতে পারেন। আবার চাইলে কোন নিদিষ্ট কোন ডিভাইসের উপর নিষেধাজ্ঞা দিতে পারেন অথবা কোন দেশের দশকদের উপরও নিষেধাজ্ঞা সেট করতে পারেন।
ক্লেইমে কি আমার কোন সমস্যা হবে?
------------------
সম্ভবত না, বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই ক্লেইম আপনার চ্যানেলের জন্য খারাপ কোন কিছু নয়। এর মানে হচ্ছে “ভাই আপনার চ্যানেলে কিছু অন্যের জিনিস পাওয়া গেছে” বলে জানিয়ে দেয়া। কনটেন্ট আইডি ক্লেইমের জন্য কি ব্যবস্থা গৃহীত হবে তা ইউটিউব নির্ধারণ করেনা, বরং এর মালিক করে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় মালিক আপনার চ্যানেলে বিজ্ঞাপণ দিয়ে টাকা কামিয়ে নিচ্ছে। যাই হোক মালিক আপনাকে ভিডিও দিতে না চাইলে কি কি করতে পারেন তার একটা ধারণা নিচে দেয়া হলো:
ভিডিও ব্লক:
মালিক ভিডিও ব্লক রাখতে পারেন। ব্লকের সীমা সারা বিশ্বও হতে পারে আবার কোন বিশেষ দেশও হতে পারে। এতে করে আপলোডকারী ছাড়া আর অন্য কেউ ভিডিওটি দেখতে পাবেনা।
বোবা ভিডিও:
যদি মালিক তার মিউজিকটিকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ মনে করে থাকেন তাহলে তিনি ভিডিওটিকে শব্দহীন করে দিতে পারেন। মানে দর্শকরা শুধু চলমান চিত্র দেখতে পাবেন কিন্তু কোন শব্দ পাবেন না।
প্লাটফরমে ব্লক:
কিছু ক্ষেত্রে কপিরাইট আইটেমের মালিক ডিভাইস, এপস বা ওয়েবসাইট কে টার্গেটে করে ভিডিও ব্লক করাতে পারেন। তবে এই রেষ্ট্রিকশন ইউটিউবের উপর কোন প্রভাব রাখেনা।
ক্লেইম হলে আমি কি করবো?
------------------
কিছুই না:
যদি আপনি স্বীকার করে থাকেন যে ভিডিওটির মালিক আপনি নন এবং এ ব্যাপারে ইউটিউবের সাথে একমত তাহলে আপনাকে কিছুই করতে হবেনা। জাষ্ট চুপচাপ থাকুন।
মিউজিক বাদ দিন:
যদি আপনার অনেক বড় একটি ভিডিওর অল্প কিছু অংশবিশেষ কপিরাইট ক্লেইমের আওতায় পড়ে তাহলে শুধুমাত্র ঐ অংশটুকু ইউটিউব থেকেই বাদ দিতে পারেন। তাতে করে নুতন করে এক্সপোর্ট এবং আপলোড না করেই ইউটিউবে থাকা অবস্থায়ই সম্ভব।
মিউজিক বদলে দিন:
ইউটিউবের নিজস্ব লাইব্রেরী থেকে কপিরাইট ফ্রি মিউজিক দিয়ে ক্লেইমড মিউজিক দিয়ে বদলে দিতে পারেন।
রেভিনিউ শেয়ার করতে পারেন:
আপনি যদি ইউটিউবের পার্টনার প্রোগ্রামে যুক্ত থাকেন তাহলে আপনি রেভিনিউ শেয়ার করতে পারেন। এই অংশটি নিয়ে আরেকটি পোষ্ট হতে পারে।
ক্লেইমের ডিসপুট দিন:
যদি আপনি মনে করেন আপনার আপলোড করা মিউজিক ইউটিউব ভুলভাবে ক্লেইম করেছে অথবা এটি আপনার কেনা লাইসেন্স করা মিউজিক তখন আপনি ডিসপুট করবেন। তবে ডিসপুট করার আগে অবশ্যই ফেয়ার ইউজ ভালো করে জেনে নিবেন। মনে রাখবেন ডিসপুটকে ইউটিউব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখে, ভুল হলে চ্যানেলের সর্বনাশ। পুরো ক্লেইম পদ্ধতিতে শুধু এই অংশেই সবচেয়ে বেশী সাবধানী হতে হবে। ডিসপুট একটি বিশাল বড় আলোচ্য বিষয়।
নিজের কনটেন্ট আইডি কিভাবে পাবো?
------------------
কনটেন্ট আইডি মুলত: কোন চ্যানেলের প্রয়োজনীয়তার উপর ভিত্তি করে ইউটিউব পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনার পর আবেদনের উপর ভিত্তি করে প্রদান করে থাকে। শুধুমাত্র কোন চ্যানেলের কনটেন্টের ১০০ ভাগ নিজস্ব হলে তবেই মাত্র কনটেন্ট আইডি পাওয়া যেতে পারে। তারপরো কিছু আইটেম আছে যার উপর ইউটিউব কখনো কনটেন্ট আইডি দেয়না যেমন : রিমেক, বেষ্ট অফ অমুক, অন্য কোন চ্যানেলের সামান্য অংশও থাকলে, ভিডিও গেমপ্লের চ্যানেলে, টিউটোরিয়াল বা সফটওয়্যার সংক্রান্ত চ্যানেলে, ট্রেইলার, চোরাই মিউজিক বা ভিডিও, কনসার্ট, ইভেন্ট, বক্তব্য, কোন শো ইত্যাদির উপর কনটেন্ট আইডি পাওয়া যাবেনা।
কনটেন্ট আইডির এপ্লিকেশনের পর তা এপ্রুভ মনে চ্যানেল মালিককে একটি মুচলেকা দিতে হয় এই মর্মে যে সে কখনোই তার 100% নিজস্ব কনটেন্ট ছাড়া অন্য কিছু আপলোড করবেনা। এছাড়াও তার কনটেন্টের আইডি কোন সীমার মধ্যে কাজ করবে তা বলতে হবে, বিশ্বব্যাপী কনটেন্ট আইডি পাওয়া যাবেনা (সত্যি বলতে এই লাইনটি আমিও বুঝতে পারিনি)।
কনটেন্ট আইডি ছাড়াও আরো কিছু টুলস আছে (ওয়েব ফরম ও কনটেন্ট ভেরিফিকেশন প্রোগ্রাম) যা কপিরাইট প্রতিষ্ঠা করার জন্য ব্যবহার করা যায়। যদি সে ধরণের কিছু কোন চ্যানেলের জন্য উপযোগী হয় বলে ইউটিউব মনে করে তাহলে কোন আবেদনকারীর আবেদন নাকচ হয়ে যেতে পারে।
ভালো থাকুন সবাই।